নানামুখী সংকটে দেশের অর্থনীতি: প্রয়োজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়

Image

সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় ক্রমাগত হারে বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর এ দুই মাসেই সরকার ব্যাংক থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ করেছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি টাকা। বিদেশী সাহায্যের আশানুরুপ সাড়া না পাওয়া,রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগে মন্দার কারণে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও। অন্যদিকে নিম্ন প্রবৃদ্ধির রপ্তানির বিপরীতে বিলাসদ্রব্য প্রধান আমদানি বেড়েছে বহুগুণ। এরফলে বাণিজ্যের ভারসাম্য নেতিবাচক পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে এবং বিনিময় হার,আভ্যন্তরীণ সুদের হার বৃদ্ধিসহ সামষ্টিক অর্থনীতির সুচকগুলো নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জরিপে ‘বিশ্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জরিপ ২০১১-১২’ এবং ‘বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থিতি প্রতিবেদন ২০১১’-এ দেখা যায়,বিশ্বের ১৪৮ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় এক ধাপ পিছিয়ে ১০৮ নম্বর ঘরে অবস্থান করছে। স্বভাবতই দেশের অর্থনীতিবীদ এবং বিশেষজ্ঞ মহল বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন। কিন্তু আদতেই দেশের অর্থনীতিতে কোন বিপর্যয়ের আশংকা আছে কিনা তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন ।

ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহন

অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেওয়া পুঞ্জীভুত ঋণ ইতিমধ্যেই ৭৯ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই সরকার ঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ১৩০ কোটি টাকার উপরে। সরকারের এ ঋণের পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলছে। গত অর্থবছরেও এ খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। সে বছর সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে তা আরও বাড়বে বলেই ধারনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ব্যাংকগুলো ভুগছে তারল্য সংকটে। এর ফলাফল হিশাবে বেড়েছে ঋণের সুদহার। এই উচ্চ সুদহার প্রথমত বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে অন্যদিকে শিল্পঋণকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। এর ফলে বেড়েছে উৎপাদন খরচ ও জিনিসপত্রের দাম।

ডলারের বিনিময় হারে অস্থিরতা

দেশে ডলারের দাম বেড়েই চলছে। এ বছরের জানুয়ারীতেও যেখানে টাকার বিপরীতে ডলারের মুল্য ছিল প্রায় ৬৯ টাকা সেখানে এই অক্টোবরে ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬ টাকা। অর্থাৎ গত দশমাসে ডলারের দাম প্রতিমাসে বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৯ মাসে টাকার বীপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৮% এরও বেশি। যেখানে গত ৫ বছর ধরে এই মুল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১ শতাংশের মত। ডলারের দামের এই উর্ধহার বাড়িয়ে দিচ্ছে মুল্যস্ফীতিসহ আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যে অস্থীতিশীলতা।

পুঁজিবাজারের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা

পুঁজিবাজার যেন শেষবেলার ভাঙ্গার হাট। পুঁজিবাজারের সূচক বর্তমানে ৫ হাজার এর ঘরে উঠানামা করছে। ২০১০ এর ডিসেম্বরে এই সূচক প্রায় ৯ হাজার পয়েন্ট অতিক্রমের রেকর্ড করেছিল। ডিসেম্বরের শেষ থেকে প্রতিনিয়ত সুচক পড়তে শুরু করে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বৃহৎ পুজিঁপতিদের বাজার থেকে টাকা উঠিয়ে নেয়া থেকে এই সংকট শুরু হয়। এই সংকট ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে বাজারব্যাপী। এখন প্রায় প্রতিদিনই সূচকের অস্বাভাবিক উঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে। সম্প্রতি ৫ হাজার কোটি টাকার  বাংলাদেশ ফান্ডের লেনদেন চালু করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিবি। তারপরও গতিতে ফিরছে না পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারের এই সংকট থেকে উত্তরণ না ঘটাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

খাদ্য মুল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে

রাজস্বনীতির সাথে মুদ্রানীতির সমন্বয়হীনতা ও অগ্রপশ্চাত বিবেচনা না করেই আইএমএফ এর চাপে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মুল্যবৃদ্ধি সার্বিক মুল্যস্ফীতিকে উস্কে দিচ্ছে। বর্ধিত মূল্যস্ফীতির কারণে বাড়ছে জনজীবনে অসন্তোষ,ব্যাহত হচ্ছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। ২০১১ এর  আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির এ হার গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শতকরা ১১ ভাগ মূল্যস্ফীতি বাড়ার অর্থ হচ্ছে গত বছরের অগাস্টে একজন ভোক্তা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ১০০ টাকা ব্যয় করলে এখন তাকে ব্যয় করতে হবে ১১১ টাকা। এই মূল্যস্ফীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন ও স্থির আয়ের লোকজন। খাদ্য মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে খুব ঝুকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে মূল্যস্ফীতির হার।

সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা বৈদেশিক ঋণের মুখাপেক্ষী

সরকার দেশের সার্বিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না। এ  কারণে সরকার বৈদেশিক ঋণের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে। আইএমএফ গত ২০১০-১১ অর্থবছরের একটি ঋণ প্রতিশ্রুতি বাতিল করেছে। তাই সরকারের অন্যতম প্রধাণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে আইএমএফ কে খুশি রাখা। আর এর অংশ হিশেবে আইএমএফ এর সব শর্ত পূরণ করতেই মূলত সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দিয়ে ওই রাতেই অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ১৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোসহ কয়েক দফা সুপারিশ সংবলিত একটি প্রতিবেদন সরকারকে দেয়। আর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর।

লেনদেনের ভারসাম্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের  রিজার্ভ পরিস্থিতি

প্রায় তিন বছর ধরে ১০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ধরে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ গত ৫ অক্টোবর ৯.৮৮ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। রিজার্ভ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে আসা। ২০১০-১১ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৩%, ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা ছিল ১৩.৪০% এবং  ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ২২.৪২%। এই রেমিট্যান্স ও রফতানি প্রবৃদ্ধি আমদানির তুলনায় কম হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ নেমে যাচ্ছে। এরফলে তা দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হতে নাও পারে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মত রিজার্ভ মুদ্রা মজুদ রাখতে হয়। এইভাবে যদি রিজার্ভ কমতে থাকে তাহলে লেনদেনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর এই পরিস্থিতিই মূলত ডলারের দামকে উসকে দিচ্ছে যা গোটা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলছে।

কমেছে বিদেশী সাহয্যের পরিমান

গত কয়েক বছর ধরেই বাজেটে বিদেশী সহায়তার পরিমাণ কমছে। বিদেশী সহায়তা প্রধানত তিনভাবে হয়ে থাকে। ঋণ সাহায্য,অনুদান এবং দ্রব্য সাহায্য। এর মধ্যে ঋণ সাহায্যটাই মূলত এখন চালু রয়েছে। অনুদানের পরিমাণ নগন্য পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০১০-২০১১ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ সাহায্য  পাওয়া যাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত ঋণ পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা,যা মূল বাজেটে প্রাক্কলিত হিশাব থেকে ৪ হাজার ১৬০ কোটি টাকা কম। এবারের অর্থবছরেও বিদেশী সাহায্যের পরিমাণ অন্যান্য বছরের চেয়ে কম।

রফতানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়

দেশের রফতানি খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং আয় কমতে শুরু করেছে আশঙ্কাজনক হারে। রফতানি আয়ের প্রধান খাতগুলো লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ৩৮ ও ৩৯ শতাংশ। জুলাই ও আগস্টে যেখানে যথাক্রমে ১৭ হাজার ৫৪৬ কোটি এবং ১৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা আয় হয়েছিল, সেখানে সেপ্টেম্বরে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। তাছাড়া রফতানি অর্ডারই শুধু কমে যাচ্ছে না, পুরনো অনেক অর্ডারও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাকে রফতানি আয় কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টজনেরা বলছেন, ইউরোপের এই মন্দা সহসা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে বাংলাদেশের রফতানি আয় আরও কমে যেতে পারে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোই বাংলাদেশী পণ্যের প্রধান ক্রেতা। এসব দেশ অর্ডার বাতিল করায় দেশের অন্তত ৩৫ ভাগ তৈরী পোশাক কারখানা এরই মধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রফতানি খাতের এই বিপর্যয় নিঃসন্দেহে ভীতিকর। কারণ, বিপুল পরিমাণ আমদানি ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান আসে রফতানি আয় থেকে।

 

রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস

গত দু বছর ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নেমেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে রেমিটেন্স থেকে আয় কমেছে সাড়ে ১৩ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এই পরিমাণ আরও কমে নেমে এসেছে মাত্র পাঁচ শতাংশে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় না দিতে পারাই এর অন্যতম কারন।বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তথা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩৫ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব থেকে। কিন্তু বর্তমানে সৌদিআরবে বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লাখ থেকে কমে এসে দাড়িয়েছে ১৮ লাখে। আরও ১০ লাখ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানোর আয়োজন চলছে। অর্থাৎ বিদেশে বাংলাদেশের জন্য কর্মসংস্থানের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বৈদেশিক মূদ্রা আয় কমে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই শুধু বাধাগ্রস্ত হবে না, বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্যেও বিরাট ঘাটতির সৃষ্টি হবে।

 

বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্যে নেই

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগ পযর্ন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং আমদানি ব্যয় বিপুল বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স আয়, বৈদেশিক সাহায্য ও এডিপিতে বিদেশি অর্থায়ন কমে যাওয়ার ফলে ভারসাম্যে বিরাট ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশ। এই ঘাটতির পরিমাণ দু’শ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার সাম্প্রতিক ব্যর্থতাও উদ্বেগের নতুন কারণ সৃষ্টি করেছে।

আইএমএফ এবং এডিবির পর্যবেক্ষণ

চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে সাড়ে ৮ শতাংশ যা সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি।গত ১৪ সেপ্টেম্বর এডিবি প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) আপডেট এ বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে এ মূল্যায়ন এসেছে।ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ৫টি প্রধান ঝুঁকির কথা বলা হয়।

প্রথমত: উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার ঘোষিত মুদ্রানীতির ছাড় দিতে হতে পারে।

দ্বিতীয়ত: বাজেট অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন নাও হতে পারে।

তৃতীয়ত: বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ব্যর্থ হলে শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়বে না।

চতুর্থত: রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক কর্মকা-কে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

পঞ্চমত: প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এডিবির মূল্যায়নে জানানো হয়,সরকারের সামনে বড় চালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

অন্যদিকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ১০ দিনের সফরে আসে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল। ওই সফরের সময় বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইএমএফ মিশন প্রধান ডেভিড কোয়েন বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ ভেতর ও বাইরের নানামুখী চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ইতিমধ্যে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যাওয়া মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইএমএফ মিশন প্রধান। তিনি বলেন, ঢিলেঢালা এবং দুর্বল নীতি বিদ্যমান থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে। এ কারণেই উচ্চহারের মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। একই কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা হারাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রয়োজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়

এতসব নেতিবাচক লক্ষণের পরও দেশের অর্থনীতি খুব একটা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে না বলেই অর্থনীতিবীদরা মনে করছেন। সরকার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারলে বিনিময় হারও যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। তবে তার জন্য যেটা আবশ্যক তা হল বিলাসদ্রব্যের আমদানি কমিয়ে এনে রপ্তানি বাড়িয়ে রেমিট্যেন্স অন্তর্প্রবাহের প্রবৃদ্ধি  যাতে অটুট থাকে সে ব্যবস্থা করা। এছাড়া সরকারের উচিত আর্থিক খাতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া এবং সে অনুযায়ী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা। শিল্প-কারখানায় জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। আর্থিক খাতে দুর্নীতিও কমিয়ে এনে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য সরকারের উচিত সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোর উদ্যোগ নেয়া। না হলে সঙ্কটই শুধু আরও মারাত্মক হবে না, দেশের অর্থনীতিও মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

(রাজনৈতিক ডট কমে প্রকাশিত)

Advertisements

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s